A little girl's awesome dancing
ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল ভেদে দুর্গা পূজা ॥
কথিত আছে যে শক্তিশালী রাক্ষস মহিষাসুর একবার ইশ্বরদের সন্তুষ্ট করেছিলেন কঠোর প্রায়শ্চিত্তের মাধ্যমে। সন্তুষ্ট ইশ্বরেরা যখন তাকে বর দিতে চাইলেন তখন তিনি অমরত্ব চাইলেন। তাকে তা দেয়া না হলে তিনি চালাকি করে বর চাইলেন যে কেবলমাত্র একজন নারী যুদ্ধে তাকে হত্যা করলে তার মৃত্যু হবে। তিনি মনে করেছিলেন যে একজন নারী তার শারীরিক শক্তির সাথে কখনো মোকাবিলা করতে পারবে না, আর তাই তিনি আসলে অমর হয়ে রইবেন। এইভাবে বরে শক্তিশালী হয়ে মহিষাসুর পৃথিবী আর স্বর্গে অরাজকতা কায়েম করলেন।
তার সাথে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে, ইশ্বরেরা তাদের সম্মিলিত বল দিয়ে শক্তিকে তৈরি করেন যিনি একজন দেবী এবং তার বিভিন্ন রূপ। তারই একটি রূপ দুর্গা। ইশ্বরদের দেয়া অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে, দুর্গা যুদ্ধে গেলেন সিংহে চড়ে। তখন এক দীর্ঘ আর ভয়ঙ্কর যুদ্ধ হয় যার শেষে মহিষাসুর মারা যায়। দেবী দুর্গাকে তাই ‘মহিষাসুর মর্দিনী’ বলা হয়। তিনি মা দেবী, সর্ব শক্তিমান যিনি সকল অশুভকে ধ্বংস করেন।
প্রাথমিকভাবে হিন্দুদের এই উৎসব বসন্তে পালিত হত। তবে এখন হেমন্তের উৎসব দেবীর মূল পূজার জাকজমককে ছাড়িয়ে যায়। হেমন্তের এই উৎসব মহাকাব্য রামায়ন অনুসারে শুরু হয়েছে সেই সময় থেকে যখন রাম তাঁর স্ত্রী সিতাকে অপহরণকারী রাবণের কাছ থেকে উদ্ধারের জন্য যুদ্ধে যাওয়ার আগে অভিবাদন জানান দুর্গা দেবীকে। যেহেতু সময়ের বাইরে দেবীর পুজা করা হয়েছিল, রামের করা দুর্গা পুজাকে ‘অকালবোধন’ বলা হয়।
রামের উদাহরণ অনুসারে, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল ভেদে দুর্গা পূজা এখন উদযাপিত হয় ৫ দিন (দুর্গা পূজা)- ১০ দিন ধরে (নবরাত্রি- যেখানে ৯ শক্তির পূজা হয়) ।
দুর্গা পুজার নির্ঘণ্ট ২০১৭
দেবীর নৌকায় আগমন…
দেবীর ঘোটকে গমন…
দেবীর ঘোটকে গমন…
মহা ষষ্ঠী
৯ই আশ্বিন ১৪২৪, ইং ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৭ (মঙ্গলবার)
পূজারম্ভ সকাল ৯:১৫ মিনিট দেবীর আগমন ও অধিবাস সন্ধ্যা ৮:০০মিনিট
পূজারম্ভ সকাল ৯:১৫ মিনিট দেবীর আগমন ও অধিবাস সন্ধ্যা ৮:০০মিনিট
মহা সপ্তমী
১০ই আশ্বিন ১৪২৪, ইং ২৭শে সেপ্টেম্বর ২০১৭ (বুধবার) নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপন সকাল ৯:১৩ মিনিট এর মধ্যে
পূজারম্ভ সকাল ৯:১৫ মিনিট
পুস্পাঞ্জলি সকাল ১১:০০ মিনিট
সন্ধ্যা আরতি ৭:৩০ মিনিট
১০ই আশ্বিন ১৪২৪, ইং ২৭শে সেপ্টেম্বর ২০১৭ (বুধবার) নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপন সকাল ৯:১৩ মিনিট এর মধ্যে
পূজারম্ভ সকাল ৯:১৫ মিনিট
পুস্পাঞ্জলি সকাল ১১:০০ মিনিট
সন্ধ্যা আরতি ৭:৩০ মিনিট
মহাঅষ্টমী
১১ই আশ্বিন ১৪২৪, ইং ২৮শে সেপ্টেম্বর ২০১৭ (বৃহস্পতিবার)
পূজারম্ভ সকাল ৯:১৫ মিনিট
পুস্পাঞ্জলি সকাল ১১:০০ মিনিট
সন্ধিপূজা: রাত্রি ৯:১৩ মিনিট থেকে রাত্রি ১০:০০ এর মধ্যে
১১ই আশ্বিন ১৪২৪, ইং ২৮শে সেপ্টেম্বর ২০১৭ (বৃহস্পতিবার)
পূজারম্ভ সকাল ৯:১৫ মিনিট
পুস্পাঞ্জলি সকাল ১১:০০ মিনিট
সন্ধিপূজা: রাত্রি ৯:১৩ মিনিট থেকে রাত্রি ১০:০০ এর মধ্যে
মহানবমী
১২ই আশ্বিন ১৪২৪, ইং ২৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৭ (শুক্রবার)
পূজারম্ভ সকাল ৮:৪৫ মিনিট
পুস্পাঞ্জলি সকাল ১০:৩০ মিনিট
সন্ধিপূজা: রাত্রি ৯:১৩ মিনিট থেকে রাত্রি ১০:০০ এর মধ্যে
১২ই আশ্বিন ১৪২৪, ইং ২৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৭ (শুক্রবার)
পূজারম্ভ সকাল ৮:৪৫ মিনিট
পুস্পাঞ্জলি সকাল ১০:৩০ মিনিট
সন্ধিপূজা: রাত্রি ৯:১৩ মিনিট থেকে রাত্রি ১০:০০ এর মধ্যে
শ্রীশ্রীবিজয়া দশমী
১৩ই আশ্বিন ১৪২৪, ইং ৩০শে সেপ্টেম্বর ২০১৭ (শনিবার)
পূজারম্ভ সকাল ৮:৪৫ মিনিট
পুস্পাঞ্জলি সকাল ১০:৩০ মিনিট
প্রতিমা বিসর্জন: বিকাল ৪:০০ মিনিট
১৩ই আশ্বিন ১৪২৪, ইং ৩০শে সেপ্টেম্বর ২০১৭ (শনিবার)
পূজারম্ভ সকাল ৮:৪৫ মিনিট
পুস্পাঞ্জলি সকাল ১০:৩০ মিনিট
প্রতিমা বিসর্জন: বিকাল ৪:০০ মিনিট
দশমীর শুভেচ্ছা
--------------------------------------------------
শুভ বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা’’রইলো
-------------------------------------------------------
দুর্গে দুর্গে দুর্গতি নাশিনী মহিষাসুর মর্দিনী জয় মা দুর্গে
দেবী দুর্গে জগত জননী তুমি মা মঙ্গল কারিণী
দশ ভুজা দশ শাস্ত্র শালিনী মধু কৈটভ সংহারিনি
অদ্বিতীয়া তুমি অনন্যা ভবানী মা দুঃখ হারিণী
শুম্ভ- নিশুম্ভ দানব দলনী ভক্তি মুক্তি দায়িনী
জগ- প্রসবিনী মহা যোগিনী চণ্ডীকে মা শিবানী
সত্ত্ব গুনে মহা সরস্বতী , রজ গুনে মহা লক্ষ্মী রূপিণী
তম গুনে মহা দুর্গা তুমি মহামায়া গো সনাতনী ।।
--------------------------------------------------
শুভ বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা’’রইলো
-------------------------------------------------------
দেবী দুর্গা তত্ত্ব
শ্রী শ্রী চণ্ডীতে আছে,
“নমো নমো মা দুর্গা
নমো নারায়ণী
কখনও বা পুরুষ হও
কখনও রমণী।
রাম রূপে ধর ধনু মা
কৃষ্ণরূপে বাঁশি,
ভুলালি শিবের মন
হয়ে এলোকেশী”।
শাস্ত্রে শ্রী শ্রী দুর্গা দেবীর অনেক নামের মধ্যে মহাশক্তি, ব্রহ্মময়ী, আদ্যাশক্তি, নারায়ণী, চণ্ডী, মহিষ-মর্দিনী, অশুর নাশিনী- এই সকল নাম বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে। এই নামগুলির প্রত্যেকটি অর্থের মাঝে একটি দর্শন, একটি তত্ত্ব নিহিত আছে। দুর্গা শব্দের বুৎপত্তিগত অর্থ দুর্গতি-নাশিনী। এই দুর্গাপূজাকে গ্রামের সাধারণ মানুষ বড় পূজা বলে আখ্যায়িত করে থাকে। সুতরাং আর্য ধর্মের সবচেয়ে বড় উৎসব হল এই দুর্গোৎসব। এখন এই দুর্গাপূজা বা দুর্গোৎসবের প্রকৃত তত্ত্ব কী এটাই এ প্রবন্ধের আলোচ্য বিষয়। এখানে পূজা শব্দের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে-“যা করলে জীবনে উন্নয়নের পথ প্রশস্ত হয়”। পূজা শব্দটি এসেছে পূজ ধাতু থেকে। এই পূজ ধাতুর অর্থ হচ্ছে ‘বর্দ্ধনশীলতা’। উৎসব শব্দটির অর্থ হচ্ছে ‘উৎস অভিমুখে গমন’ অতএব পূজা বা উৎসব শব্দটি একই অর্থ বহন করে। এই দুর্গাপূজা বা দুর্গোৎসবের মধ্যে দু’টি তত্ত্ব নিহিত আছে। একটি জাগতিক বা সাংসারিক এবং অন্যটি আধ্যাত্মিক। এ পূজার জাগতিক অর্থ হল বাস্তব জীবনের উন্নয়ন। দুর্গাপূজা করা মানে হচ্ছে দুর্গা হওয়া। দুর্গার দশটি হাতের অর্থ হল দশদিকের কর্মযোগ্যতা বা দক্ষতা। একজন নারী যখন সংসারের সকল কর্মে দক্ষতা লাভে ব্রতী হয় তখনই তার সংসার সুন্দর হয়। আর সুন্দর সংসার হতে হলেই লক্ষ্মী-সরস্বতীর মত কন্যা এবং গণেশ-কার্তিকের মত পুত্র হওয়া বাঞ্চনীয়। আর সুন্দর সন্তান জন্মাতে প্রয়োজন স্বামীর প্রতি অবিচ্ছেদ্য টান। শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র বলেছেন, “স্বামীর প্রতি টান যেমনি, ছেলেও জীবন পায় তেমনি”। তাই দুর্গাপূজার শিবঠাকুর দেবীর মাথার উপরে। তাই বলেছেন,
স্বামী রেখে মাথার উপর
ইষ্ট পূজায় জীবন শেষ
সতী-তেজের বর্ম নিয়ে
এরাই গড়বে নূতন দেশ”।
দুর্গার দশটি হাতের মধ্যে একটি আশির্বাদের অভয় হস্ত এবং বাকী নয়টিই হচ্ছে প্রহরণ যন্ত্র। এই নযটি প্রহরণ যন্ত্র দিয়ে মহা শক্তি জগতের অমঙ্গলকে ধ্বংস করবে। তাই প্রতিটি মা যদি জীবন্ত দুর্গা না হয়ে ওঠে তবে এ পূজার সার্থকতা কোথায়? মাটি দিয়ে গড়া এ প্রাণহীন প্রতিমাকে তাই পুরোহিত মন্ত্রপুত করে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে, চক্ষুদান করেন। তেমনি প্রতিটি নারীর মাঝে ইষ্টমন্ত্র বা দীক্ষাদান পূর্বক নূতন করে প্রাণ প্রতিষ্ঠা ও জ্ঞান চক্ষুদান করে জগতের দুর্গতি নাশে যত্নবান হলেই আমাদের এ দুর্গাপূজা সার্থক হবে। সংসার যখন দুর্গা-মণ্ডপে পরিণত হবে তখনই হবে এ পূজার সার্থকতা। নতুবা মাটির পূজা মাটি হয়েই যাবে।
সঞ্জয় মল্লিক
লেখক : চারণ কবি ও কলেজ শিক্ষক
Subscribe to:
Posts (Atom)




























